প্রযুক্তি বান্ধব বাজেটের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা

৩০ মে, ২০২১ ১৯:০২  
টেলিযোগাযোগ মাধ্যমে সহজেই স্বচ্ছতার সঙ্গে কর আদায় করা সম্ভব বলে মত দিয়েছেন বিটিআরসি ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত মৈত্র। অপরদিকে ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে টেলিকম খাতকে ক্ষতিকর ‘তামাক’ এর পর্যায়ে নিয়ে না যেতে কর্তৃপক্ষের যথাযথ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অ্যামটবের সেক্রেটারি জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এস এম ফরহাদ। আর ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সম্প্রসারণ ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মত দিয়েছেন আইএসপিএবি মহাসচিব ইমদাদুল হক। এসব বিষয় মাথায় রেখেই এবারের জনবান্ধব ডিজিটাল বাজেট পেশ করা হবে বলে আশা রাখেন খাত সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত 'আসন্ন বাজেটে টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতে আমাদের প্রত্যাশা' শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তারা। বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত মৈত্র বলেন, সহজে কর আদায় করার একমাত্র উপায় টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাত। হতে পারে এ কারণেই এ সেবায় কর বেশি আদায় করা হয়। আমি সরকারি চাকরি করলেও দিন শেষে আমি একজন গ্রাহক বা ভোক্তা; যাই বলি না কেন, আমাকেও কর দিতে হয়। আমার কাছে মনে হয় যারা কর নির্ধারণ করেন (এনবিআর) তাদের কাছে টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতের গুরুত্ব শুধু কর আদায় না হয়ে সামগ্রিক দিক বিবেচনায় নেয়া উচিত। এই সেবাগুলো আরো বিকশিত হবার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, কর যদি গ্রাহক ও ব্যবসা বান্ধব হয় তাহলে আরো কর আদায় করা সম্ভব। সবদিক বিবেচনা করে আমিও বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় নেয়ার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আলোচনায় অ্যামটবের সেক্রেটারি জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এস এম ফরহাদ বলেন, টেলিযোগাযোগ একটি সেবা খাত হলেও এ সেবায় কর দিতে হয় তামাক পণ্যের সমান। গ্রাহক পর্যায়ে ৩৩.২৫ শতাংশ, সংযুক্তির ক্ষেত্রে সিম  ট্যাক্স ২০০ টাকা, কর্পোরেট  ট্যাক্স ৪৫ শতাংশ। বিপুল পরিমাণ ট্যাক্স থাকার কারণে গ্রাহকরা যেমন একদিকে অতিরিক্ত সেবা নিতে পারছে না, আবার নতুন সংযোগ দেয়া যাচ্ছে না অতিরিক্ত সিমট্যাক্সের কারণে। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীরা উচ্চ কর্পোরেট ট্যাক্স এর কারণে বিমুখ হয়ে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে আগামী দিনে ফাইভ-জি বাস্তবায়ন করতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারকে সহযোগিতা করতে আসন্ন বাজেটে ট্যাক্স কমানোর কোন বিকল্প নাই বলে মন্তব্য করেন অ্যামটব মহাসচিব। বক্তব্যে আইএসপিএবি সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু বাস্তবতা হলো ব্রডব্যান্ডের পেনেট্রেশন অত্যন্ত কম। প্রান্তিক পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড পৌঁছাতে হলে গ্রাহকের সংযোগ প্রাপ্তিতে সকল ধরনের ডিভাইসের উপর ট্যাক্স কমাতে হবে। ক্যাব এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজির হোসাইন বলেন, গ্রাহকরা দীর্ঘদিন যাবত মানসম্পন্ন সেবা পাচ্ছে না। তাই সবার আগে মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সকল প্রতিবন্ধকতা তাই দূর করতে হবে। আলোচনায় অংশ নিয়ে দৈনিক মানবজমিনের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার কাজী সোহাগ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজেট এলেই কেবল আলোচনা হয়। সারা বছর কর নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান আলোচনা করে না কেন, প্রশ্ন রাখেন তিনি। সকল স্টেকহোল্ডারদের মতামত নিয়েই একটি জনবান্ধব বাজেট তৈরি করা অত্যন্ত জরুরী বলে মনে করি। সবশেষে সঞ্চালক মহিউদ্দিন আহমেদ প্রত্যাশা রেখে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য সরকার নিশ্চয়ই আসন্ন বাজেটে গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করে একটি জনবান্ধব বাজেট প্রদান করবেন।